যেহেতু বিদেশের রিয়েল এস্টেট বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করে চলেছে, তাই আরও বেশি মানুষ সম্পদের বৈচিত্র্যকরণ, সন্তানদের শিক্ষা বা অবসরকালীন পরিকল্পনার জন্য বিদেশে সম্পত্তি কিনছেন। ক্রেতারা প্রায়শই সম্পত্তির দাম এবং অবস্থানের উপর মনোযোগ দিলেও, অনেকেই ক্রয় প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত বিভিন্ন কর এবং ফি উপেক্ষা করেন। বাস্তবে, প্রতিটি দেশের নিজস্ব কর ব্যবস্থা রয়েছে এবং ক্রয়, মালিকানা ও পুনঃবিক্রয়ের পর্যায়ে খরচ দেখা দিতে পারে। এই করগুলো আগে থেকে জেনে রাখলে ক্রেতারা তাদের বাজেট আরও কার্যকরভাবে পরিকল্পনা করতে এবং অপ্রত্যাশিত খরচ এড়াতে পারেন।
বিদেশে সম্পত্তি ক্রয় করার সময় কোন কোন কর প্রদেয়?
বিদেশে সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে শুধু ক্রয়মূল্য পরিশোধ করাই যথেষ্ট নয়। বেশিরভাগ দেশে, ক্রয় সম্পন্ন হওয়ার আগে ক্রেতাদের বিভিন্ন কর এবং লেনদেন-সম্পর্কিত ফি প্রদান করতে হয়। যদিও দেশভেদে করের হার ভিন্ন হয়, তবে প্রধান বিভাগগুলো সাধারণত একই রকম হয়ে থাকে।
ক্রয় পর্যায়ে সাধারণত নিম্নলিখিত খরচগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:
- স্ট্যাম্প ডিউটি বা সম্পত্তি হস্তান্তর কর, যা সাধারণত ক্রয়মূল্য বা সম্পত্তির মূল্যের শতাংশ হিসাবে গণনা করা হয়;
- স্থাবর সম্পত্তি লেনদেন কর, যার হার ও গণনা পদ্ধতি দেশ ও অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়;
- লেনদেন প্রক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট আইনি, নোটারাইজেশন এবং সম্পত্তি নিবন্ধন ফি;
- নির্দিষ্ট কিছু দেশে আরোপিত অতিরিক্ত সারচার্জ বা বিদেশী ক্রেতা কর।
ক্রয়মূল্য ছাড়াও, এই কর ও ফিগুলো মোট অধিগ্রহণ খরচের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গঠন করে। এগুলো আগে থেকে বুঝে নিলে ক্রেতারা পর্যাপ্ত তহবিল প্রস্তুত করতে পারেন এবং বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগের সুযোগগুলোকে আরও নির্ভুলভাবে তুলনা করতে পারেন।
সম্পত্তির মালিকানাকালে কোন কোন কর প্রদান করতে হয়?
সম্পত্তি কেনাটা কেবল শুরু। মালিকানাকালীন সময়ে, অনেক দেশ বার্ষিক কর বা অন্যান্য নিয়মিত খরচ আরোপ করতে থাকে। যদিও এই খরচগুলো সময়ের সাথে সাথে ছড়িয়ে পড়ে, তবুও এগুলো দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ব্যয়ের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
মালিকানাকালে বিনিয়োগকারীদের সাধারণত নিম্নলিখিত খরচগুলো প্রত্যাশা করা উচিত:
- নির্ধারিত মূল্য বা স্থানীয় সরকারি প্রবিধানের উপর ভিত্তি করে বার্ষিক সম্পত্তি কর;
- পৌর বা স্থানীয় কর যা জন পরিকাঠামো এবং সামাজিক পরিষেবা সমর্থন করে;
- কিছু দেশে ভূমি কর বা খালি জায়গার উপর করের মতো অতিরিক্ত কর।
দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সরাসরি বৈদেশিক সম্পত্তি বিনিয়োগের লাভজনকতাকে প্রভাবিত করে। কোনো সম্পত্তির দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক কার্যকারিতা মূল্যায়ন করার সময় এই চলমান খরচগুলো সর্বদা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
বিদেশে সম্পত্তি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন কর প্রযোজ্য হয়?
বিদেশে বসবাসকারী অনেক সম্পত্তির মালিক স্থিতিশীল আয়ের জন্য তাদের সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে থাকেন। তবে, ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয় সাধারণত করযোগ্য, এবং বিদেশী সম্পত্তির মালিকদের জন্য কর সংক্রান্ত নিয়মকানুন স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে ভিন্ন হতে পারে।
বিদেশে সম্পত্তি ভাড়া দেওয়ার সময় বিনিয়োগকারীদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলির প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত:
- ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয় সাধারণত ব্যক্তিগত আয়কর বা ভাড়া আয়করের আওতাধীন;
- কিছু দেশ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ফি, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং বন্ধকী সুদের জন্য কর ছাড়ের অনুমতি দেয়;
- বিদেশী মালিকদের স্থানীয় নিয়মকানুন অনুযায়ী বার্ষিক কর রিটার্ন দাখিল করতে হতে পারে;
- দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি একই আয়ের উপর দুইবার কর আরোপ হওয়া রোধ করতে সাহায্য করতে পারে;
- যেসব বিনিয়োগকারী পেশাদার সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ব্যবহার করেন, তাদের সংশ্লিষ্ট কর সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাগুলোও বোঝা উচিত।
ভাড়া কর ব্যবস্থা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা বিনিয়োগকারীদের তাদের প্রকৃত ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয় আরও নির্ভুলভাবে অনুমান করতে সাহায্য করে এবং একই সাথে কর পরিপালনের সম্ভাব্য ঝুঁকিও হ্রাস করে।
বিদেশে অবস্থিত সম্পত্তি বিক্রি করার ক্ষেত্রে কী কী কর প্রযোজ্য?
বিদেশের সম্পত্তি বিক্রি করার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন কর এবং ফি জড়িত থাকতে পারে। অনেক দেশে, সম্পত্তির মূল্যবৃদ্ধি থেকে অর্জিত মুনাফা করযোগ্য, তাই সম্পত্তি বিক্রির কৌশল পরিকল্পনা করার আগে কর সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাগুলো বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
সম্পত্তি বিক্রি করার সময় বিনিয়োগকারীদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলির প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত:
- সম্পত্তির মূল্যবৃদ্ধির ফলে অর্জিত মুনাফার উপর মূলধনী লাভ কর প্রযোজ্য হতে পারে;
- লেনদেন খরচের মধ্যে স্থানান্তর ফি, আইনি খরচ এবং প্রশাসনিক চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে;
- কিছু দেশ সম্পত্তির মালিকানার সময়কাল অনুযায়ী করের হার নির্ধারণ করে।
পুনর্বিক্রয় প্রক্রিয়ার সময় উদ্ভূত কর সামগ্রিক বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয়কে সরাসরি প্রভাবিত করে। মালিকানার সময়কাল এবং বিক্রয়ের সময় সম্পর্কে সঠিক পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদী মুনাফা সর্বাধিক করতে সাহায্য করতে পারে।
বিদেশে থাকা সম্পত্তির করের খরচ কীভাবে কমানো যায়?
বিদেশে সফল সম্পত্তি বিনিয়োগের জন্য শুধু সঠিক সম্পত্তি নির্বাচন করাই যথেষ্ট নয়। কার্যকর কর পরিকল্পনা মালিকানার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে।
কর ব্যয় আরও ভালোভাবে পরিচালনা করার জন্য, নিম্নলিখিত সুপারিশগুলো বিবেচনা করুন:
- ক্রয় করার আগে আপনার লক্ষ্য দেশের সর্বশেষ কর বিধিমালা ভালোভাবে জেনে নিন;
- একটি উপযুক্ত বিনিয়োগ কৌশল প্রণয়নের জন্য স্থানীয় আইনজীবী, হিসাবরক্ষক বা কর উপদেষ্টাদের সাথে পরামর্শ করুন;
- ক্রয় চুক্তি, কর রশিদ এবং সংশ্লিষ্ট খরচের সম্পূর্ণ রেকর্ড রাখুন;
- এমন একটি মালিকানা কাঠামো বেছে নিন যা আপনার দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের উদ্দেশ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সঠিক কর পরিকল্পনা কেবল অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতেই সাহায্য করে না, বরং বিনিয়োগের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে সম্পদের আরও স্থিতিশীল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
বিদেশে সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রে ক্রয় কর, বার্ষিক সম্পত্তি কর, ভাড়া থেকে আয়ের উপর কর এবং মূলধনী লাভ কর জড়িত থাকতে পারে, এবং এর নিয়মকানুন দেশভেদে উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হয়। এই কর সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তাগুলো আগে থেকে জেনে রাখলে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো যায় এবং আর্থিক পরিকল্পনা উন্নত করা যায়। যারা আন্তর্জাতিক রিয়েল এস্টেট বাজার, বিদেশী সম্পত্তির নিয়মকানুন এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে আগ্রহী, তাদের জন্য সাংহাই ফরমোট প্রদর্শনী এবং সংশ্লিষ্ট রিয়েল এস্টেট প্রদর্শনীগুলো শিল্প খাতের পেশাদারদের সাথে সংযোগ স্থাপন এবং বাজার সম্পর্কে মূল্যবান ধারণা অর্জনের চমৎকার সুযোগ প্রদান করে।





